ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোবাইল ফোনে রিপোর্টার্স২৪-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। তবে কী কারণে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে—তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা।
হঠাৎ করে একজন প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসাইনের সঙ্গে তার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও চলছিল।
ফরিদপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী থাকায় আসনটি আগে উন্মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘটনায় ভোটের অঙ্ক নতুন করে কষতে হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, তিনি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবেন। তিনি আরও জানান, তার নেতা আল্লামা মামুনুল হক ইসলামিক ঐক্য জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি যদি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন, তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থীর সঙ্গে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন প্রার্থী অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই পারেন। এর মানে এই নয় যে তিনি কাউকে সমর্থন দিয়েছেন। এ ধরনের প্রচারকে তিনি অপপ্রচার বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আল্লামা মামুনুল হকের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা গত এক বছর ধরে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুল পুলিয়া বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একান্ত আলোচনা হয়। এরপরই মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, দুই নেতার সাক্ষাতের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন কি না—এ প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন