ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: মাঘের হাড়কাঁপানো শীতে যেখানে আমেজ থাকার কথা নলেন গুড় আর টাটকা খেজুরের রসের, সেখানে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বইছে হাহাকার। “যশোরের যশ, খেজুরের রস”—এই কালজয়ী প্রবাদটি এখন কেবল রূপকথার গল্পে পরিণত হতে চলেছে। প্রশাসনের উদাসীনতা আর অবৈধ ইটভাটা মালিকদের ‘গাছখেকো’ লালসার বলি হচ্ছে হাজার হাজার খেজুর গাছ।
আজ থেকে প্রায় ৭৫–৮০ বছর আগে, ব্রিটিশ আমলেও এ অঞ্চলে খেজুর রসের এতটাই আধিপত্য ছিল যে এখানকার লাল চিনি নদীপথে পাড়ি দিত কলকাতায়। আজ সেই সোনালি ইতিহাস কেবলই দীর্ঘশ্বাস। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে একসময়ের বিশাল খেজুর বাগানগুলো।
বেনেপাড়ার প্রবীণ গাছি শাহিনুর রহমান ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আগে শত শত বাগান ছিল। সকালে ৭০–৮০ ভাঁড় রস নামাতাম। এখন বাগানই নেই—সব গাছ চলে গেছে ইটভাটার পেটে। তখন ৩ টাকা সের গুড় বেচতাম, আর এখন ৩০০ টাকা কেজি দিয়েও মানুষ গুড় পায় না।”
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা এবং প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে যত্রতত্র কেটে ফেলা হচ্ছে খেজুর গাছ। কয়লার বদলে সস্তা জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী গাছগুলো।
দুধসরা গ্রামের গাছি আব্দুল অহেদ বলেন, “৩৫ বছর ধরে রস বিক্রি করছি। আগে যে রস ৪০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন তা ৩০০ টাকা। গাছ কমলে রস আসবে কোথা থেকে?”
সচেতন মহলের মতে, খেজুর গাছ নিধনের ফলে শুধু ঐতিহ্যই হারাচ্ছে না, পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনবিভাগ মুখে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’র কথা বললেও মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট বীরদর্পে গাছ নিধন চালিয়ে যাচ্ছে।
এখনই যদি এই ‘বৃক্ষ নিধন যজ্ঞ’ বন্ধ না করা হয়, তবে অচিরেই কোটচাঁদপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘তরল সোনা’।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন