রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে ফেব্রুয়ারির আগমন মানেই বাঙালির মননে জেগে ওঠে ভাষার জন্য লড়াই করা এক অমর ইতিহাস। এই মাস কেবল সময়ের একটি অধ্যায় নয় ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মচেতনা, সংগ্রাম আর গৌরবের প্রতীক। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগের যে দীপ্ত শিখা জ্বলে উঠেছিল, তার আলোতেই আজও পথ চলে জাতি।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল বাঙালি ছাত্রসমাজ। শাসকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উচ্চারিত হয়েছিল একটাই দাবিরাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। সেই দাবির মূল্য দিতে গিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগেই বাংলাভাষা পেয়েছে তার প্রাপ্য মর্যাদা।
লাল রক্তে রঞ্জিত সেই পথ ধরেই বাংলা আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় পরিচয়ের প্রধান স্তম্ভ। বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, আবেগ ও অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই ভাষা। তাই বাংলা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি বাঙালির প্রাণের ভাষা।
ভাষা আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায় পেরিয়ে ৭৪ বছরের দীর্ঘ পথচলায় অমর একুশে আজ আর শুধু একটি দেশের স্মৃতি হয়ে নেই। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার এই অনন্য দৃষ্টান্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা ভাষাভাষী মানুষ এ দিনে স্মরণ করে ভাষার অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
সময় বদলেছে, ভাষার ব্যবহারেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক যোগাযোগের যুগে বাংলা নতুন নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। তবুও একটি সত্য অটুট বাংলা ভাষাই বাঙালির হৃদয়ের গভীরতম স্পন্দন।
প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি ফিরে আসে নতুন আলো, নতুন চেতনা নিয়ে। হাজার বছরের ভাষা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম বহন করে চলে এই গৌরবময় উত্তরাধিকার। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি তাই শুধু স্মরণের নয়। এটি শপথের মাস, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসার, লালন করার ও আগামীর কাছে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকারের মাস।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম