| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দ্বিমুখী মানসিকতার মানুষ থেকে দূরে থাকুন

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২১, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৬৪৪৫৬ বার পঠিত
দ্বিমুখী মানসিকতার মানুষ থেকে দূরে থাকুন
ছবির ক্যাপশন: লেখকঃ রিয়াজুল হক, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

রিয়াজুল হক :

মানুষের মুখ আর মন এক নয়, এই প্রবাদটি আমরা বহুবার শুনেছি। জীবনের নানা প্রেক্ষাপটে এর সত্যতা আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করি।সমাজে এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা মুখে একরকম কথা বলেন, কিন্তু কাজের বেলায় অন্য কিছু করেন। এদেরকেই আমরা দ্বিমুখী মানসিকতার মানুষ বলে থাকি।


দ্বিমুখী মানসিকতা মানুষের নেগেটিভ চরিত্রগত একটি দিক। আমরা অনেক সময় মানুষের খারাপ বর্ণনা দিতে গিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কথাটাও বলে থাকি।


দ্বিমুখী মানসিকতা বলতে মূলত কি বুঝায়?  সহজ বাংলায়,  এটা হচ্ছে দ্বৈত আদর্শ। অর্থাৎ একজন মানুষ একই কাজকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই ভাবে দেখে থাকেন। একই কাজের বর্ণনা নিজের বেলায় একরকম, আবার অন্যের বেলায় পুরোপুরি ভিন্নরকম। 


দ্বিমুখী মানসিকতার কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে।


১। এক মাংস বিক্রেতা যখন নিজে মাংস বিক্রি করে, তখন মাংসে পানি মিশিয়ে ওজন বাড়ায় এবং ক্রেতাদের ঠকিয়ে থাকে। আর নিজের বিক্রি শেষ হয়ে গেলে, তখন সেই একই লোক অন্য মাংস বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলে থাকে, যারা মাংসে পানি মিশিয়ে বিক্রি করে, তাদের কোনো নীতি আদর্শ নেই।


২। আপনি যখন চোর ধরেন, তখন ঘোষণা দেন চুরি করা মহাপাপ, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়া উচিত ইত্যাদি। আবার আপনি যখন সুযোগ পাচ্ছেন, তখন নিজেই চুরি করছেন। চুরি করা যে অন্যায় কিংবা অন্যের বেলায় যে ছবক দিয়েছেন, সেটা নিজে চুরি করার সময় বেমালুম ভুলে গেছেন।


৩।‌ আপনার বোনের সাথে কেউ প্রেম করলে, সে অপরাধ করেছে, অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। আর আপনি অন্যের বোনের সাথে প্রেম করলে, আপনি একজন মহান প্রেমিক, তখন প্রেম শাশ্বত।


৪। এলাকার একটা মেধাবী ছেলে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছে। আপনি জানতে পেরে বললেন যে, এসব লেখাপড়া করে জীবনে কোন পরিবর্তন হবেনা, দেশের কোন উপকারে আসবে না। অথচ আপনি নিজেই দীর্ঘদিন এশিয়ার মধ্যে মধ্যমসারীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


৫। যখন কেউ তার পিতা মাতার সেবা-যত্ন করে না, খোঁজ নেয় না, তখন আপনার মতে সেই সন্তান কুলাঙ্গার। আর আপনি যখন নিজের পিতা মাতার খোঁজ নেন না, তখন কাজের ব্যস্ততা, আর্থিক সমস্যাসহ নানা সমস্যা হাজির করে থাকেন।


এই ধরনের মানুষদের আচরণ যেমন বিভ্রান্তিকর, তেমনি ক্ষতিকরও। মজার ব্যাপার হলো, এরা কখনোই নিজেদের ভুল স্বীকার করেন না। বরং অন্যের ভুল তুলে ধরে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চান।


ব্যক্তিগত সম্পর্কেও এই মানুষেরা ভয়ানক। তারা তখনই আপনার খোঁজ নেবেন, যখন তাদের প্রয়োজন হবে। আপনি বিপদে পড়লে, হয়তো তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেখাবে। কিন্তু তাদের যখন দরকার, তখন আপনাকে অতি আপন হিসেবে প্রমাণ করে ছাড়বে। এটা একধরনের সুবিধাবাদী সম্পর্ক, যেখানে আন্তরিকতা নেই, আছে কেবল প্রয়োজনের ব্যবসা। আরও ভয়ংকর দিক হলো, দ্বিমুখী মানসিকতার  মানুষগুলো এতটাই চতুর যে, আপনি প্রথমে বুঝতেই পারবেন না যে, তারা আপনার সাথে কী করতে চাচ্ছে। 


দ্বিমুখী মানসিকতার মানুষদের এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ তাদের সংস্পর্শে এসে আপনি যে কেবল মানসিক চাপের মধ্যে থাকবেন তা নয়, বরং আপনার চারপাশের সম্পর্কগুলোর ওপরও প্রভাব পড়বে। আপনি হয়তো নিজেও ধীরে ধীরে সেই দ্বিমুখী ব্যবস্থার অংশ হয়ে যাবেন। আপনি খারাপ কিছু করতে চাইছেন না, কিন্তু ক্রমাগত এমন মানুষের সংস্পর্শে থেকে আপনার মূল্যবোধ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে।


এছাড়া, এই ধরনের মানুষ কখনোই কৃতজ্ঞ থাকে না। আপনি তাদের জন্য যতই কিছু করুন না কেন, পরবর্তীতে তারা আপনার সেই অবদানের কথা বেমালুম ভুলে যাবে। এবং যদি কোনোদিন আপনি তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে তারা আপনাকে দোষারোপ করতেও চিন্তা করবে না। দ্বিতীয় মানসিকতা এক অদৃশ্য রোগ। এই রোগীদের কোন ব্যক্তিত্ব থাকে না। এদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ বিবেক, নৈতিকতা ও সততা যদি আপনার জীবনের চালিকাশক্তি হয়, তবে আপনার যাত্রাপথ হবে অনেক বেশি স্থিতিশীল, সুন্দর ও সমৃদ্ধ।


লেখকঃ রিয়াজুল হক, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪