জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া দেশে ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুরে জনসভায় যোগদানের আগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমান বন্দরে নেমে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মব কালচার চলছে। কিন্তু এসব সহিংসতায় জামায়াতের কোনো কর্মী জড়িত নয়। ১৯৭২ সাল থেকেই এ পরিস্থিতি চলছে। জামায়াত সবসময় মব রাজনীতির বিরুদ্ধে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন চাই।
একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর পদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাব শর্ত সাপেক্ষে মেনে নেবে বিএনপি। এ জন্য সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের জন্য জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) বা এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করা যাবে না বলে শর্ত দিয়েছে দলটি। বিএনপির এই শর্তের সঙ্গে একমত নয় জামায়াতে ইসলামী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সাম্য, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করাই জামায়াতের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আপনার হাতে যদি নির্বাচন ব্যর্থ হয়ে পড়ে, নিরপেক্ষ না হয়; তাহলে জাতির সামনে বড় দুর্যোগ অপেক্ষা করছে। একটা ভুলের পুনরাবৃত্তি দ্বিতীয়বার না হয়, সেই নিরপেক্ষতার প্রমাণ সরকারকেই দিতে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করেছিলেন। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা, যার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী আজকের বৈঠকে অংশ নিয়েছে।
এক দিনের অনুপস্থিতির পর আবারও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যোগ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল। সংলাপে ফিরে তারা পেয়েছে উষ্ণ অভ্যর্থন। এসময় উপস্থিত রাজনৈতিক দলের নেতারা করমর্দন ও কোলাকুলির মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন এবং প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা'পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই এখন থেকেই আমাদের জনগণের মাঝে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘এখন অনেকেই লম্বা লম্বা কথা বলেন। মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ( ২৯ নভেম্বর ২০১৩) দিনেই হাসিনার বিদায় হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন রাজপথে নেমে আমাদের নেতাকর্মী শহীদ হলেন। কিন্তু এখন যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন ওই দিন তাদের ফোন বন্ধ ছিল। যার কারণে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের বাড়ির বাইরে বেরোতে পারিন নাই। বালির ট্রাকের সামনে আটকে গিয়েছিলেন। ওইদিন তার পাশে কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না। তার সঙ্গে ছিলেন শুধু গৃহকর্মী ফাতেমা। ওইদিন কই ছিলেন আপনারা?’’
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা বলবেন আর নাগরিকত্বের প্রথম অধিকার ভোট দিতে দেবেন না, এটা হবে না। তারা যেন দেশ কিংবা বিদেশে থেকে স্বচ্ছ এবং স্বাচ্ছন্দ্যভাবে ভোট দিতে পারেন।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, নব্য ফ্যাসিবাদরাই জামায়াত নেতা কাউছারকে হত্যা করেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে যারা নব্য ফ্যাসিবাদ শুরু করেছে তারাই আমার ভাই কাউছার আহমেদ মিলন হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত