ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাউতিকান্ধা ও হিরালদী গ্রামবাসীরা ষড়যন্ত্রমূলক হয়রানি মামলা থেকে মুক্তি পেতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তারা হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করনের জোর দাবি জানান।
রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সাউতিকান্দা ও হিরালদী এলাকার শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে ঘারুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান হাওলাদার, শাহিন হাওলাদার, ফরিদুজ্জামান লাবলু,সোবাহান মাতুব্বর প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, কাল্পনিক অভিযোগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। এতে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, একই ঘটনার বিষয়ে থানায় দেওয়া অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আদালতে দায়ের করা মামলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে প্রকৃত ঘটনা থাকার পরও সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, তার ছেলে ও ভাইসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরোয়ার মুন্সির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাদের দাবি, চিকিৎসা নথি, সিটি স্ক্যান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এসব নথি পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে হিরালদী গ্রামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আদালতে দায়ের করা সিআর মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, একই ঘটনার দুই অভিযোগে আসামি ও অভিযোগের বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (সিডিআর) ও অন্যান্য বস্তুনিষ্ঠ আলামত যাচাই করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মামলা ও অভিযোগের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে এবং স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।
তারা মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধীও যেন আইনের বাইরে না থাকে এটাই তাদের মূল দাবি। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেনও তারা। মানববন্ধনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব