রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে করা, বাল্যবিবাহ এবং বিবাহসংক্রান্ত নানা ধরনের জটিলতা প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর সেই তথ্য গোপন করে অন্য কোথাও আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইন ব্যবস্থায় তার আগের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে।
এর ফলে একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন করে নতুন করে বিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করা হলে সেটি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কাজীকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিবন্ধিত বিবাহ ও তালাকের তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাই করা আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে। কোনো ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য একাধিক সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সমন্বিত থাকলে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই করা সহজ হবে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে শুধু বিবাহ নিবন্ধনই নয়, তালাকের তথ্যও অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে একজন ব্যক্তির বর্তমান ও পূর্ববর্তী বৈবাহিক অবস্থার বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। কে বৈধভাবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, তা নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।
বিদেশে বসবাসকারী কিংবা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী কে, সে বিষয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে বিবাহসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।
নতুন এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দেশের সব কাজীকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য কাজীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে নিকাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সরাসরি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে কাগজভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় নিবন্ধিত তথ্য দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা ভাঙতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অনেক সাব-রেজিস্ট্রার দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বদলি করতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং লটারির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী জানান, নিয়মনীতি অনুসরণ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার মতে, লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি বদলি ও পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগও কমানো সম্ভব হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম