ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত ২৪টি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরে ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে ভারতীয় নাবিকবাহী একটি জাহাজসহ তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পৃথক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী গত দুই দিনে আকাশসীমায় ২৪টি ড্রোন শনাক্ত করে এবং সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এসব ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। চলতি সপ্তাহে ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলার শিকার হওয়া এটি তৃতীয় জাহাজ। এর আগে ‘মারিভেক্স’ ও ‘সেত্তেবেলো’ নামের আরও দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে ভারতীয় নাবিকবাহী একটি জাহাজে মার্কিন হামলা হয়। ওই জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তারা সবাই নিরাপদ রয়েছেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খড়গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেছেন। এর জবাবে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি