| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমার রাজ্যে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করলে ছাড় দেয়া হবে না: বিজয়

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১২, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৭:৫০:অপরাহ্ন  |  ৮৩২ বার পঠিত
আমার রাজ্যে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করলে ছাড় দেয়া হবে না: বিজয়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে ‘থালাপতি’ বিজয় নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার রাজ্যে যদি কোনো হিন্দু মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করে, তবে তার ফল বিশ্বের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী যে ধর্মেরই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নাগরিকের অধিকার সবার জন্য সমান এবং এটি রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি রাজ্যজুড়ে ৭০০-র বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ জারি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত ৭১৭টি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই দোকানগুলো মূলত বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ছিল। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের অধীনে ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। বিজয় নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো ধর্মীয় স্থান, স্কুল, কলেজ বা জনবহুল বাস স্ট্যান্ডের ৫০ মিটারের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। বন্ধ হতে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে অবস্থিত।

গত রোববার ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক দল টিভিকে (তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম) এবারের নির্বাচনে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। 

কংগ্রেস, বামপন্থী দলসমূহ এবং মুসলিম লিগের মতো বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবার একটি জোট সরকার গঠিত হয়েছে। ক্ষমতা লাভের পর থেকে তিনি সামাজিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবেই এই বিশাল সংখ্যক মদের দোকান বন্ধের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয় জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু কাজের অনুমোদন দিয়েছেন, যার মধ্যে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রদান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন অন্যতম। এছাড়া জেলাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তিনি। তবে মদের দোকান বন্ধের ফলে রাজ্য সরকারের বিপুল আয়ে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। 

তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে প্রভাব পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ডিএমকে আমলের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের যে ঘোষণা বিজয় দিয়েছেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও চর্চা চলছে।


সূত্র: আর আর চ্যানেল ও এবিপি

রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪