| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কেন তিসি গুঁড়া করে ব্যবহার করলে তা সুপারফুডে পরিণত হয়

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৩, ২০২৬ ইং | ০০:২০:৩৯:পূর্বাহ্ন  |  ৩২২৪২৯ বার পঠিত
কেন তিসি গুঁড়া করে ব্যবহার করলে তা সুপারফুডে পরিণত হয়

রিপোর্টার্স ডেস্ক: তিসি মূলত একটি পুষ্টিতে ভরা বীজ। এর স্বাদ অনেকটা বাদামের মতো হলেও এর স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুমুখী। পেটের জন্য উপকারী হওয়ায় পাশাপাশি এটি মানব শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরের প্রদাহ কমাতেও এর কার্যকারিতা দেখা যায়।

উদ্ভিদভিত্তিক ডায়াবেটিস রান্নার বইয়ের লেখক পুষ্টিবিদ জ্যাকি নিউজেন বলেন, তিসি আপনার অন্ত্র, হদয় এবং সার্বিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। হৃদ-বিপাকীয় উপকারিতার পাশাপাশি, কিছু গবেষণা এমনও বলেছে যে এই ক্ষুদ্র বীজগুলো স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য এবং দীর্ঘায়ুকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রাখে।

এইযে তিসির এতো উপকারিতা তার মূল কারণ এর মধ্যে থাকা অধিক পরিমাণের আশ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড ও লিগনান (উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত এক বিশেষ ধরনের যৌগ যা পলিফেনল গ্রুপের অন্তর্গত)। এ ছাড়াও এতে আছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং সেলেনিয়াম।

ফাইবারের ক্ষেত্রে, তিসির বীজে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় প্রকার ফাইবারই থাকে। দ্রবণীয় ফাইবার, যা কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এই ছোট বীজগুলোর মোট ফাইবারের ২৫ শতাংশ গঠন করে। অন্যদিকে অদ্রবণীয় ফাইবার, যা পরিপাকনালীর মধ্য দিয়ে খাদ্যের দ্রুত চলাচলে সহায়তা করে, তা মোট ফাইবারের ৭৫ শতাংশ গঠন করে।

তিসির বীজ আসে তিসি গাছ থেকে, যা এর আঁশের (যা দিয়ে পোশাক ও অন্যান্য পণ্য তৈরি হয়) এবং বীজের (যা খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়) জন্য চাষ করা হয়। এই ছোট বীজগুলো অনেক খাবারে টেক্সচার ও স্বাদ যোগ করে। কিন্তু গুঁড়ো করে নিলে এটি হজম করা সবচেয়ে সহজ হয়।

যদিও গোটা তিসির বীজ এবং এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ ও নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে, তবে এর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলোর বেশিরভাগই শরীরে শোষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কম।

পুষ্টিবিদ জ্যাকি নিউজেন বলেন, ‘আপনার পরিপাকতন্ত্র সাধারণত তিসির শক্ত বাইরের খোসাটি ভাঙতে পারে না, তাই গোটা বীজগুলো প্রায়শই আপনার পরিপাকতন্ত্র থেকে সেভাবেই বেরিয়ে যায়। এর ফলে আপনার শরীর ওমেগা-৩, লিগনান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য-সুরক্ষাকারী যৌগগুলো শোষণ করতে পারে না।’

তিসি খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক থেকে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ তিসির গুঁড়া নেওয়াই ভালো। তিসি কিনে গুঁড়া করা বেশি ঝামেলার মনে হলে দোকান থেকেও গুঁড়া অবস্থায় কিনে নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে কেনা এসব গুঁড়া সাধারণত একবার খোলার পর বেশি দিন ভালো থাকে না। তাই তিসির গুঁড়ো খাওয়ার ক্ষেত্রে গোটা তিসি কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে গুঁড়া করে নেওিয়াই ভালো। তিসি গুঁড়া করার পর তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তিসি যে শুধু ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডারেই গুঁড়া করতে হবে এমন না। চাইলে শিল-পাটারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সারাদিনে আপনার খাবারে গুঁড়া করা তিসি বীজ যোগ করা সহজ। বেকিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি এগুলোকে ডিমের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়াও আপনি এই গুঁড়া বীজ দইয়ের ওপর ছিটিয়ে দিতে পারেন, সালাদের জন্য ড্রেসিংয়ে দিতে পারেন অথবা রান্নার আগে মুরগি বা মাছের ওপর ব্রেডক্রাম্বের পরিবর্তে এর প্রলেপ হিসেবেও দিতে পারেন।

রান্নায় তিসির বীজের ব্যবহারের কোনো অভাব নেই, মূল বিষয় হলো এ বিষয়ে সৃজনশীল হওয়া। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি তখনই সুপারফুড যখন আপনি এটিকে বছরে বা মাসে একবার না, আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করেন। তাই এটিকে আপনার খাদ্যাভ্যাসের একটি নিয়মিত অংশ করে তুলুন। সুস্থ থাকুন। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪