| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আড়াই লাখ ব্যক্তিকে ‘মিয়ানমারে পূর্বে বসবাসকারী’ বলে চিহ্নিত করেছে নেপিডো

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ৩০, ২০২৬ ইং | ১৭:০৯:৩৬:অপরাহ্ন  |  ৩৭৯৫১৮ বার পঠিত
আড়াই লাখ ব্যক্তিকে ‘মিয়ানমারে পূর্বে বসবাসকারী’ বলে চিহ্নিত করেছে নেপিডো

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ থেকে ছয়টি ধাপে মোট আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে নেপিডো কর্তৃপক্ষ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ ব্যক্তিকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলেও তিনি জানান।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপি সরকার ইতঃপূর্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুবার সফলভাবে বৃহৎ পরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছে। প্রথমত, ১৯৭৮ সালে যখন মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আগমন ঘটে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় তাদের সবাইকেই সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়।

দ্বিতীয়ত, ১৯৯২ সালে যখন প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আগমন ঘটে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রায় দুই লাখ ছত্রিশ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—বিশেষত সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত সত্ত্বেও পূর্বের এই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

খলিলুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে বিষয়টি নিয়মিত উত্থাপন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সম্মেলনের আয়োজন এবং আঞ্চলিক ও প্রভাবশালী দেশসমূহের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াসমূহেও বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অংশীজন সংলাপের আয়োজন করা হয়। এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আয়োজন। এ সংলাপে ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশনসমূহ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থাসমূহ, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এনজিওসমূহ, এক্সপার্ট ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম প্রভৃতিসহ বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এই সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা সম্ভবপর হয়।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা তথ্য যাচাইকরণ করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার হতে ছয়টি ধাপে মোট ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে। এযাবৎ বাংলাদেশ কর্তৃক প্রেরণকৃত ব্যক্তিদের তথ্যের মধ্যে মিয়ানমার সরকার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ ব্যক্তিকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে এখনই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। 

বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪