| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

উজিরপুরের হারতা ইউনিয়নে ইউপি সদস্য'র বিরুদ্ধে লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ৩০, ২০২৬ ইং | ১৫:০৬:২৭:অপরাহ্ন  |  ৩৭৫১১০ বার পঠিত
উজিরপুরের হারতা ইউনিয়নে ইউপি সদস্য'র বিরুদ্ধে লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২ নম্বর হারতা ইউনিয়নে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে গভীর নলকূপ স্থাপন, ভাতা কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্থানীয় জনগণকে হয়রানির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, হারতা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল ইসলাম তালুকদার । তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযোগকারীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এই ইউপি সদস্য। 

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গভীর নলকূপ স্থাপন ও বিভিন্ন ভাতা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অসহায় মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী কোনো সুবিধা পাননি, এমনকি টাকা ফেরতও পাননি।

ভুক্তভোগী রেশমা আক্তার অভিযোগ করেন, ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্ড পাইনি, উল্টো টাকা চাইলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেছেন আরব আলী, শাহজাহান তালুকদার, সবুর মীর, খালেক ব্যাপারীসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা জানান, গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ রহমতুল বারীকে পরিষদে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, হিসাব সহকারী, চৌকিদার ও দাফাদারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজের ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।

অন্যদিকে, সংখ্যালঘু এক পরিবারের কাছ থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী ছায়ারানি ও কার্তিক মন্ডল জানান, বসতঘর নির্মাণের জন্য কেনা জমিতে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তালুকদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে আমি ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে না পারি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ রহমতুল বারী বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে হারতা ইউনিয়নে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধনের ঘটনাও ঘটে, যা ইউনিয়নের প্রশাসনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবার প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।  

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪