| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাশাপাশি কবরে চিরশায়িত মা ও তিন মেয়েসহ পাঁচজন, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১০, ২০২৬ ইং | ১৭:৫০:০৩:অপরাহ্ন  |  ৭৯৭৯ বার পঠিত
পাশাপাশি কবরে চিরশায়িত মা ও তিন মেয়েসহ পাঁচজন, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরে ভাড়া বাসায় খুন হওয়া একই পরিবারের পাঁচজনকে গোপালগঞ্জে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে মা, তার তিন কন্যা এবং ওই নারীর ভাই রয়েছেন।

রোববার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে জেলার পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে এদিন ভোরের দিকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় লাশগুলো। 

জানা যায়, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঁচ নিথর লাশ নিয়ে রোববার ভোর ৬টার দিকে পৌঁছায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের ফকিরবাড়ীতে। একে একে পাঁচটি নিথর দেহ নামানো হয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে। এ সময় পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।

ছয় মাস আগেও যে বাড়ির উঠান আর পাশের বাগানে খেলাধুলা করে বেড়াতো তিন শিশু, সেই বাগানেই মা আর মামার সঙ্গে করানো হচ্ছে শেষ গোসল। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে ফকিরবাড়িতে ভিড় করে আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচজনের নির্মম মৃত্যুর এমন ঘটনা এর আগে দেখেনি তারা। তাই কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অনেকে চিৎকার করে আর্তনাদ করেছেন। হৃদয়স্পর্শী এমন ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গোসল শেষে সকাল ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা বলেছেন, এ ঘটনা নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান একা ঘটাতে পারে না। এর সঙ্গে অন্যরা জড়িত থাকতে পারে। তাই এই ঘটনার জড়িত সব আসামিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর কাউকে দেখতে না হয়।

নিহত শারমিন আক্তার ও রসুলেন মা ফিরোজা বেগম এ ঘটনার পর থেকে অনেকটা বাকরুদ্ধ। দুই সন্তান ও তিন নাতনিদের শোকে কাতর তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দাবি জানিয়েছেন তিনি ।

নিহত শারমিন ও রসুলের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা বলেন, এক বছর ধরে ফোরকান আমাকে ও মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতন ও যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল। এ কারণে আমার মেয়ে বাড়িতে চলে এসেছিল। আমরা সন্দেহ করছি ফোরকানের সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্ক ছিল কারও। কেননা ফোরকান নেশা করত। ফোরকান আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি চাই।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি গাজীপুরের হলেও এটি একটি বড় ঘটনা। তাই আসামিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ে ঘাতক ফোরকান মোল্লাসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

শনিবার (৯ মে) ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাউৎকোনা গ্রামের ফোরকান মোল্লার বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩৫), ছেলে রসুল মোল্লা (১৯), শারমিনের তিন মেয়ে মীম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০), ফারিয়া (২)।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪