জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ তুলে মারধর ও অপমানের ঘটনায় লজ্জায় মায়ের আত্মহত্যার মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে মা-বাবাকে মারধর ও অপমান করার জেরে ওই মা আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জামালপুর সদর থানায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে আত্মহননকারী নারীর ছেলে সজীব মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানা-পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নায়েব আলীর ছেলে হৃদয় এবং গ্রাম্য মাতব্বর আজিজুর রহমানের ছেলে গোলাম কিবরিয়া। তারা পূর্ব কুটামনি খলিলহাটা গ্রামের বাসিন্দা।
আত্মহত্যাকারী জোসনা বেগম ওই গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়ার স্ত্রী। বৃহস্পতিবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সুরুজ মিয়া ও জোসনা বেগম তাঁদের দুই ছেলে সুজন মিয়া ও সজীব মিয়াকে নিয়ে বসবাস করতেন। বুধবার রাতে দুই ছেলে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ওই এলাকার নায়েব আলীর ছেলে মো. কাউসার মিয়ার গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন সুরুজ মিয়ার বাড়িতে ভিড় করে।
খবর পেয়ে কাউসারের মামা নায়েব আলী ঘটনাস্থলে আসেন। তবে পরে দেখা যায়, গোয়ালঘর থেকে কোনো গরু চুরি হয়নি এবং গোয়ালঘরটি তালাবদ্ধ ছিল।
এরপরও মিথ্যা সন্দেহে আসামিরা সুরুজ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়াকে গরু চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তারা সুজনকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মা-বাবা বাধা দিলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সুজন পালিয়ে যায়।
সুজনকে না পেয়ে আসামিরা তার মা-বাবাকে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পাশাপাশি খলিলহাটা এলাকা থেকে রঞ্জু মিয়া (৩২) ও সুহেল মিয়া নামে আরও দুজনকে ধরে আনা হয়।
পরে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তথাকথিত ‘বিচার’ বসিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়। এ অপমান ও লজ্জা সইতে না পেরে সুজন মিয়ার মা জোসনা বেগম আত্মহত্যা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন