| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানকে রাশিয়ার সামরিক সহায়তা কতটা বিস্তৃত?

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৭, ২০২৬ ইং | ১৫:১৫:৪৪:অপরাহ্ন  |  ৪০৬২৮৩ বার পঠিত
ইরানকে রাশিয়ার সামরিক সহায়তা কতটা বিস্তৃত?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে রাশিয়ার সামরিক সহায়তা ‘কিছুটা’ এভাবেই এর পরিমাণকে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৩ মার্চ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মস্কো সম্ভবত কিছুটা সহায়তা করছে।

এর পরদিনই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তেহরানের সঙ্গে মস্কোর সামরিক সহযোগিতা ‘ভালো’।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য। এসব তথ্য মূলত রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ নামের নজরদারি স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি।

রাশিয়া অতীতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যার আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে মস্কো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাশিয়ার সহায়তা মূলত গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অস্ত্রের কিছু উপাদান সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকার কারণে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও আগ্রহ দুটিই সীমিত।

অন্যদিকে, সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর ইরানও মস্কোকে গোলাবারুদ, আর্টিলারি শেল, আগ্নেয়াস্ত্র এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। বিশেষ করে ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়া ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা পরে উন্নত করে আবার ইরানের কাছে ফিরে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলার যে কৌশল তৈরি করেছে, যেখানে একসঙ্গে বাস্তব ও ভুয়া ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয় তা এখন ইরানও প্রয়োগ করছে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ইরানের ড্রোন সক্ষমতা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমে গেছে। মার্চের শুরুতে প্রতিদিন ২০০-২৫০ ড্রোন হামলা চালালেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৫০-এ নেমে এসেছে।

এদিকে, রাশিয়া ইরানের পক্ষে বড় ধরনের সামরিক বিজয় চায় না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, যা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য লাভজনক। তেলের দাম বাড়লে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর ব্যয় মেটানো সহজ হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাশিয়ার বর্তমান সহায়তা অনেকটাই প্রতীকী বা ‘সৌজন্যমূলক’ যার উদ্দেশ্য ইরানকে সমর্থনের বার্তা দেওয়া, কিন্তু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয়।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য কিছুটা উপকারী হলেও তা যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো নয়। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘মস্কো হয়তো কিছুটা সাহায্য করছে’ বাস্তবতার কাছাকাছিই বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪