রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী কোনোভাবে বাস থেকে বের হতে পেরেছেন। তবে অধিকাংশ যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে আরিচা থেকে আরেকটি দল যোগ দেয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের দুটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এছাড়া সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের, যা কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে এসেছিল। বাসটির চালক ও সহকারীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনটির রাজবাড়ী কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ।
এ পর্যন্ত উদ্ধার সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, যেখানে বাসটি ডুবে গেছে সেখানে নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করেছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি