| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৫, ২০২৬ ইং | ১৯:০৮:২৩:অপরাহ্ন  |  ৪৩৫৩৯০ বার পঠিত
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের ছুটি শেষে আবার কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরছেন যাত্রীরা। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যাত্রাপথে তুলনামূলক স্বস্তির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নগরের বাসিন্দারা। অনেকেই জানিয়েছেন, বাড়ি যাওয়ার সময়ের তুলনায় ফেরার পথে যানজট কম ছিল, যদিও ঢাকায় প্রবেশের পর কিছু এলাকায় হালকা যানজট দেখা গেছে।

দুপুর ১২টার দিকে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের যাত্রীরা বাসে করে ঢাকার ওই টার্মিনালে নামছেন। টার্মিনালে পৌঁছানোর আগেই মহাখালী কাঁচাবাজার ও কলেরা গেটের বাসস্টপগুলোতেও যাত্রীদের নামতে দেখা যায়। অনেক যাত্রীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল গ্রাম থেকে আনা চাল-ডাল, শাকসবজি, পিঠা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রভর্তি ব্যাগ। ফলে টার্মিনাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য ভিড় বাড়তে দেখা যায়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অরিন ট্রাভেলসের একটি বাসে করে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরেন রাশেদুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে দুই ছেলে ও স্ত্রী ছিলেন। তিনি জানান, বাড়ি যাওয়ার সময় দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হলেও ফেরার সময় রাস্তায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। গ্রামে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পেরে ভালো লাগার কথাও জানান তিনি। অফিস শুরু হয়ে গেলেও একদিন অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছেন বলেও জানান।

বেলা দেড়টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিড় কম। তবে কোনো ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করলেই প্ল্যাটফর্মে সাময়িক ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছিল। বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পৌঁছানোয় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেন থেকে নামার পর বেশিরভাগ যাত্রী দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে রওনা হন।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা দেড়টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। ওই ট্রেনে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফেরেন আয়াত মাহমুদ। তিনি জানান, আগের দিনের টিকিট না পাওয়ায় একদিন দেরিতে ফিরতে হয়েছে। অফিসে বিষয়টি আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন। এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক আরামদায়ক ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই ট্রেনে ঢাকায় ফেরেন ধানমন্ডির বাসিন্দা শিব শংকর সাহা। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে ঘুরে ঈদের ছুটি কাটিয়েছেন। ছয় দিনের ভ্রমণের পর এখন সন্তানদের স্কুলে ফেরার প্রস্তুতি এবং নিজের কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন। ট্রেন সময়মতো পৌঁছানোয় কোনো ভোগান্তি হয়নি বলেও জানান তিনি।

বেলা দুইটার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক হয়ে একের পর এক যাত্রীবাহী বাস গোলাপবাগ এলাকায় থামছে। রাস্তার পাশেই যাত্রী নামানোর কারণে কিছু সময়ের জন্য হালকা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে উড়ালসড়কের ওপরে বাস থামার আগেই নেমে যাচ্ছেন। টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলচালকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে অনেক চালক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

নোয়াখালী থেকে একুশে পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় আসেন আলিফ হোসেন। তিনি জানান, ঈদের সময় আবহাওয়া আরামদায়ক ছিল এবং যাত্রাপথে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ঢাকায় নেমে স্থানীয় যানবাহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় তিনি বাসে করেই মগবাজার এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো নিয়মিত বিরতিতে ঘাটে ভিড়ছে। চাঁদপুর ও ইলিশা থেকে আসা একাধিক লঞ্চে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল থেকে সদরঘাটে ৭০টির বেশি লঞ্চ এসে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে লঞ্চ থেকে নামার পর অনেক যাত্রীকে গণপরিবহন সংকটে পড়তে দেখা যায়। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় কেউ কেউ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কাছাকাছি এলাকায় হেঁটে বিকল্প পরিবহন খুঁজছেন। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, কিছু যানবাহন স্বাভাবিকের দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪