রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতি এক হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার (২৫ মার্চ) গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালের রাতটি আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ নির্মম হত্যার শিকার হন।
তিনি বলেন, এই নির্মম গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিদ্রোহ শুরু হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, সাহসী করে তোলে এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। এভাবেই শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যা নয় মাস ধরে লড়াই শেষে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গৌরবময় বিজয়ে পরিণত হয়।
রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই বর্বরতা এবং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পর অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা—যেখানে বৈষম্য, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও অন্যায় থাকবে না। তিনি ধর্ম, বর্ণ বা মতের পার্থক্য ছাড়াই সবাইকে শহীদদের চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থাকার জন্য অনুরোধ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন