| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যমুনার চরে এখন সবুজের সমারোহ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৪, ২০২৬ ইং | ২০:৩৮:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৪৩৪০৮৪ বার পঠিত
যমুনার চরে এখন সবুজের সমারোহ

জামালপুর প্রতিনিধি: হুয়হংহ নদী যেমন চীনের দুঃখ তেমনি যমুনা নদীও ইসলামপুরের দুঃখ। উপজেলাটি কয়েক কিলোমিটার প্রস্ত নিয়ে বুক চিড়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলছে যমুনা নদী। বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙন তছনছ করে দেয় উপজেলার মানচিত্র। এবার শুস্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল

জেগে উঠা পলিমাটিযুক্ত মাটি সোনালি দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষদের। যারা নিঃস্ব হয়েছে নদী ভাঙন আর প্রলয়ংকারী বন্যায়। সেই যমুনার এবার সবুজের সমারহ। সবুজ ফসলে ভরে উঠেছে বিস্তৃণ চরাঞ্চল। তাই হাসি ভরা মুখে  নানা ফসলের আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লব। যমুনার চর এখন যেন সম্বলহারাদের সুখের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ।

একদিকে ভাঙনে বসতবাড়ি বিলীন , অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন চর। যমুনা নদীর প্রবাহমান ভাঙ্গা-গড়ার মাঝেই নদীর সাথে করে বাঁচতে হয় নদী পাড়ের মানুষদের। একসময় যমুনায় জেগে উঠা চরের বিস্তীর্ণ ভূমি ছিল অনাবাদি ও পতিত ধূ-ধূ বালুর চর। বর্তমানে কৃষকদের আগ্রহ-বেঁচে থাকার লড়াই আর আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বদলতে যমুনার বিস্তীর্ণ বালুর চর এখন সবুজ ফসলের মাঠ।  

জীবন-জীবিকার তাগিদে নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষগুলো জেগে উঠা নতুন চরের প্রতিটি ক্ষেত্রে বুনকরছে জীবন স্বপ্ন। তাদের কঠোর শ্রমে সেই জমিতে এখন ‘সোনার  ফসল ফলছে । যমুনার চরে শুধু পুরুষ নয় নারীরাও কৃষি কাজে পার করছেন ব্যস্ত সময়।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙা-গড়ার খেলায় ধীরে ধীরে প্রায় ২০ বছরে জেগে উঠছে যমুনার এসব চর । প্রতি বছরই চরের পরিধি একটু একটু করে বাড়ছে ।

নদীর উভয় পাড়ের সময়ের প্রয়োজনে  জীবীকার তাগিদে জেগে উঠা চরে ঘর বেঁধেছেন এক সময়ের বসতবাড়ি হারানো মানুষরা। অনাবাদি পতিত বালুর চরে ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চীনা বাদাম, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিশি, কালোজিরা, আখ ও মাসকালাইসহ নানা ফসলে ভরে উঠেছে । 

চরাঞ্চলে এ যেন এক শস্যবিপ্লব সেই সাথে  নদীভাঙনে সর্বহারা মানুষেরা গড়ে তুলছেন সম্ভাবনার নতুন সংসার। সাপধরী ইউনিয়নের কাশারী ডোবা গ্রামের আলীম বলেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে বাপ-দাদার বসতবাড়ি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আমরা পাশের জেলায় বগুড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট নিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করেছি। আমাদের জমিগুলো আবার জেগে উঠায় নিজ জমিতে ঘরবাড়ি করেছি।

কৃষক খবির উদ্দিন বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই চর পানির নীচে চলে যাওয়ায় বালু মাটির উপর পলিমাটি পড়েছে। এতে ফসলে ভরে উঠেছে যমুনার বিস্তৃণ চরাঞ্চল। 

কৃষকদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন শস্যের আবাদ হলেও আমাদের খোঁজ নেয় না কোন কৃষি  কোন কর্মকর্তা। নিজেদের চেষ্টাতেই আমরা আবাদ করি। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কৃষি বিভাগ যদি গভীর নলকূপ বা অন্য কোন উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করে তাহলে এখানের চাষ-বাসে আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ  বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

রিপোর্টার্স২৪/মিতু

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪