কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি পক্ষ খাল পরিষ্কার বা খনন কার্যক্রম শুরু করলে অপর পক্ষ তা বাধা দিতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন এবং যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আল আশরাফ মামুন-এর সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক আজিজুল হাকিম মীর দাবি করেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খননের কাজ শুরু করা হলে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়ে কয়েকজন আহত হন।
কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, এটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হলেও কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছে।
তবে অপর পক্ষের নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এগারসিন্দুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খুর্শীদ উদ্দিন ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, খালটি সরকারি উদ্যোগে খননের জন্য তারা আগে থেকেই আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে খাল কাটার নামে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সংঘর্ষের জন্য তারা দায়ী নন। বরং তাদের সমর্থকরাই হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, “এক পক্ষ খাল পরিষ্কার করতে এলে অন্য পক্ষ বাধা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আপাতত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে তার কোনো সমর্থক ছিল না এবং খাল খনন কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি