লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা হয় সাত বছরের শিশু সায়েদা আক্তার। কিন্তু সবার সঙ্গে তার আর বাড়ি ফেরা হলো না, পথেই মৃত্যু হলো। আর পরিবারের অন্য সদস্যরাও আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামের ছোট্টো সায়েদা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে ফরিদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত প্রায় ৩টার দিকে বাসটি কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সায়েদাসহ অন্তত ১২ জন যাত্রী।
এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন সায়েদার মা রাজিয়া বেগম (৩৬) বাবা হাফেজ সিরাজুদৌলা (৫০) ও বড় বোন আফনান (১৮)। তারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আফনান আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে বলে জানায় স্বজনরা।
জানা গেছে, নিহত সায়েদার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামে। তবে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে পরিবারটি নতুন বসতি গড়ে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে।
সায়েদার বাবা হাফেজ সিরাজুদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুই বছর আগে বড় ছেলে রোমানকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে হারানোর পর দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ফরিদপুরেই থাকতেন। ঈদের আগে বাড়ি ফেরেন নি, তাই ঈদের রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তারা৷ এবারের ঈদে গ্রামের বাড়িতে এসে নির্মাণাধীন নতুন ঘরে ওঠার কথা ছিল তাদের।
সায়েদার চাচি সাহিনুর সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই বছর আগে ভাসুর তার এক ছেলেকে হারিয়েছেন, এখন ছোট মেয়েটাও চলে গেল। বড় মেয়েটা আইসিইউতে, আর ভাসুর ও তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। এবার বাড়িতে ফিরে নতুন ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন আমরা শোকে পাথর হয়ে গেছি। ওর মা-বাবা ফিরে এসে যখন সন্তানের কবর দেখবে, তখন তাদের কী সান্ত্বনা দেব?
সায়েদার মামা আবি আবদুল্লাহ জানান, দুর্ঘটনায় সায়েদার বড় বোন আফনান, বাবা সিরাজুদৌলা ও মা রাজিয়া সুলতানা আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে আফনান আইসিইউতে। শুনেছি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, সায়েদার মা রাজিয়া সুলতানার শরীরের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বাবা সিরাজুদৌলা মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন।
সায়েদার ফুফা আব্দুর রব বলেন, মেয়েটা প্রতিবছর ঈদে বাড়িতে এসে আমাদের পরিবারকে মাতিয়ে রাখতো। আনন্দ-উল্লাস করতো। আনন্দের বদলে ভাগ্য এবার বেদনা বয়ে এনেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব