আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের লিকেজ বা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি মার্কিন সামরিক কমপ্লেক্সের কাছে ড্রোন হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, ইরান ও তার মিত্ররা বিভিন্ন ফ্রন্টে পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। তবে একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধেও বেসামরিক জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে, ইরানের এক কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান ‘কমিয়ে আনার’ বক্তব্যে আস্থা না থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কঠিন জবাব’ দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সাফেদে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ক্রমেই একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সক্রিয় হলেও, এতে উল্টো সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি