রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদের আনন্দের দিনেও কমেনি ভোগান্তি রাজধানীতে তেল নিতে এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে ঈদের দিনেও।
প্রথমে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। অনেকেই আশা করেছিলেন, ঈদের ছুটিতে হয়তো পাম্পগুলোতে ভিড় কম থাকবে কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে উল্টো।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্পে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও তেল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসাদগেট এলাকায় দুটি পাম্পের মধ্যে একটি বন্ধ। অন্যটি খোলা থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। একই চিত্র দেখা গেছে ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনসহ অন্যান্য পাম্পেও।
পাম্পকর্মীরা জানান, ঈদের ছুটিতে ভিড় কমবে। এমনটাই ধারণা ছিল তাদের। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই ভেবেছিলেন, ঈদের দিন পাম্প ফাঁকা থাকবে। ফলে নামাজের পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র চাপ, যা দিনভর চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “ঈদের দিন ফাঁকা থাকবে ভেবে আগে তেল নেইনি। এখন মনে হচ্ছে আগেই নেওয়া ভালো ছিল।”
আরেক চালক জানান, সকাল ১১টার আগে লাইনে দাঁড়িয়েও এক ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তবুও এখনো তেল পাননি। অন্যদিকে কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ঘুরতে বের হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও লাইনে দাঁড়িয়েই সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববাজারেও চলছে অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। মার্চের শুরু থেকেই দেশের তেল বাজারে চাপ তৈরি হয়। কিছু পাম্প বন্ধ হয়ে যায়, আর কিছু সীমিত সরবরাহ দেয়।
যদিও সরকার বলছে দেশে বড় ধরনের সংকট নেই, তবুও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা ঈদের দিনেও তেলের জন্য মানুষের এই দীর্ঘ অপেক্ষাই তার প্রমাণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম