| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইবির জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্বপদে পুনর্বহাল ও শাস্তি মওকুফ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২০, ২০২৬ ইং | ০৬:১৬:০৩:পূর্বাহ্ন  |  ৪২৩৯৮৯ বার পঠিত
ইবির জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্বপদে পুনর্বহাল ও শাস্তি মওকুফ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লববিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ‘অপরাধে’ শিক্ষক ও কর্মচারীদের শাস্তি মওকুফ ও স্বপদে পুনর্বহাল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। এতে ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কোনো সিন্ডিকেট সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন, ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা বানু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. সেলীনা নাসরিন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা।

এছাড়া আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, , কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জয়শ্রী সেন, আল-ফিকহ এন্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ইব্রাহীম হোসেন সোনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এবং কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট, একই দপ্তরের আব্দুস সালাম সেলিম, মাসুদুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের জে এম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের তোফাজ্জেল হোসেন ও জনসংযোগ দপ্তরের আবু সিদ্দিক রোকন।

এর আগে, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর নেতৃত্বে শাস্তি নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই সময় জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৯ শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি একই অভিযোগে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে শিক্ষাজীবন শেষ করা শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরতদের বহিষ্কার করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে গত বছরের ১৫ মার্চ আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, তথ্যচিত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এদিকে, একই ঘটনাবলির সার্বিক পর্যালোচনা ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য গত ১৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি রিভিউ কমিটি গঠন করে। সর্বশেষ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি মওকুফ করে পুনর্বহাল করা হলেও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪