খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি ১৪ কিলোমিটার এবং লক্ষ্মীছড়ি–সিন্দুকছড়ি ১৬ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে পাল্টে যাবে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্তমান দৃশ্যপট। জীবনযাত্রার মান অনেক গুণ বাড়বে।
জানা যায়, মানিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি সড়কটি মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত। একই অবস্থা লক্ষ্মীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়কটিরও। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কটি সরু হওয়ার কারণে লক্ষ্মীছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকাগামী বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এছাড়াও ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে অন্তত ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০টিরও বেশি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক লক্ষ্য করা যায়। এখানকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থা মোটরসাইকেল ও সিএনজি।
এই উপজেলায় আম, কলা, হলুদ, আদা এবং পাহাড়ি ঝাড়ু ফুল প্রচুর উৎপাদন হয়। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হয় সীমিত আকারে। রাস্তা-ঘাটের অপ্রতুলতার কারণে এ উপজেলার উন্নয়ন থমকে আছে। এলাকার মানুষের আয়, জীবন-জীবিকার মান উন্নত হচ্ছে না।
উক্ত সড়ক প্রশস্ত করা হলে এ উপজেলার উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমবে। এছাড়াও সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত করা হলে এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা সহজ হবে। ফলে কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।
এছাড়াও এই সড়কটি প্রশস্ত করা হলে এটি ব্যবহার করে লক্ষ্মীছড়ি–বর্মাছড়ি–কাউখালী হয়ে রাঙামাটির সাথে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ফলে রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা চট্টগ্রাম না গিয়ে লক্ষ্মীছড়ি হয়ে জালিয়াপাড়া–রামগড় হয়ে সহজেই রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন।
তাই মানিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা বলেন, মানিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি সড়কটি প্রশস্ত করা খুবই জরুরি। চিকন সড়ক হওয়ার কারণে বড় গাড়ি চলাচল করতে পারে না। সড়কটি প্রশস্ত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, লক্ষ্মীছড়ি বাজারকে ঘিরে প্রতিনিয়ত বহু যানবাহন চলাচল করে, কিন্তু সেগুলো ছোট জিপ ও সিএনজি। এই সড়কটি বড় করা হলে বড় যানবাহন চলাচল করত এবং দূরের ব্যবসায়ীরা এসে মালামাল কিনে দেশের অন্যত্র নিতে পারতেন।
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, এ উপজেলার প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এ উপজেলা দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হবে।
পিছিয়ে পড়া এ উপজেলাকে এগিয়ে নিতে হলে মানিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন