আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে হামলার মতো বড় লক্ষ্যবস্তু প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে হামলার জন্য বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তু এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ছোট লক্ষ্য থাকতে পারে। তিনি বলেন, এখানে-ওখানে সামান্য কিছু লক্ষ্যবস্তু থাকতে পারে। কিন্তু আমি যখন চাইব, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ছয় সপ্তাহের একটি যুদ্ধ। তবে তার দাবি, অভিযানটি প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনায় যতটা অগ্রগতি আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্যই হুমকি ছিল না; বরং দেশটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তার ভাষায়, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে এবং বহু বছর ধরে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত কয়েক দশকে ইরানের কর্মকাণ্ডের জন্যই দেশটি এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসের রাজনীতি চালিয়েছে, এখন তারই পরিণতি ভোগ করছে। তারা এত সহজে পার পাবে না।
তবে যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হবে—এই বিষয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কখনো তিনি দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন অভিযান এখনও চলমান থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি