প্রতিনিধি চাঁদপুর: তারাবি নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নূরানি মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় চার ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জতারাবি নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নূরানি মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় চার ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামে। শিশুটি ওই গ্রামের মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে এবং স্থানীয় সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের ছাত্র ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইফতারের পর রাত ৮টার দিকে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবি নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনেরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করে বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? সে কী অপরাধ করেছিল?” নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়া অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন