স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রথম মাসের ভাতার টাকা মোবাইলে পৌঁছানোর পর উপকারভোগী নারীদের মধ্যে দেখা গেছে আনন্দ, স্বস্তি ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কয়েকটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয় এবং উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রথম মাসের ভাতা পাঠানো হয়। মোবাইলে অর্থ পৌঁছানোর বার্তা পাওয়ার পর অনেক নারী আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ জানান, এতদিন এমন সহায়তা পাওয়ার কথা কল্পনাও করেননি।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা শিউলি বলেন, ঈদের আগে এই টাকা পেয়ে তারা খুব খুশি। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। মিনা নামের আরেক উপকারভোগী বলেন, এই অর্থ দিয়ে নিজের পাশাপাশি সন্তানদের জন্যও কিছু কেনাকাটা করতে পারবেন।
অনেক নারী জানান, মোবাইলে টাকা আসার বার্তা পেয়ে তারা বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছেন। একজন নারী বলেন, মোবাইলে মেসেজ পাওয়ার পর আবেগে তার চোখে পানি চলে আসে। আরেকজন জানান, এই টাকায় তিনি মেয়ের পড়াশোনার খরচে সহায়তা করবেন।
এক অসুস্থ নারী বলেন, তিনি ও তার স্বামী দুজনই অসুস্থ হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তিনি জানান, এই টাকা দিয়ে অন্তত বাজার করা এবং সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
কয়েকজন উপকারভোগী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নাম নিবন্ধনের সময় তাদের কোনো ধরনের অর্থ দিতে হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত করেছেন বলে তারা জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপকারভোগীরা আশা প্রকাশ করেন, কর্মসূচিটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং নিম্নআয়ের আরও পরিবার এর আওতায় আসবে। অনেকেই বলেন, নিয়মিত এই সহায়তা পেলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হবে।