| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে: আইজিপি

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৯, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৫:৫৯:অপরাহ্ন  |  ৫৬৬৭০০ বার পঠিত
থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে: আইজিপি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট কাটাতে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি জানান, থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ রাখতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে জনগণের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করার ওপর জোর দেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, অতীতের কিছু ঘটনার কারণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে জেলা সদরের থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি সদর থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য একজন সার্কেল এএসপি দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, পুলিশ এমনভাবে সেবা দিতে চায় যাতে থানায় আসা মানুষ হাসিমুখে ফিরে যেতে পারে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। একই সঙ্গে পুলিশের সাড়া দেওয়ার সময়ও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথাও জানান তিনি। আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন আইজিপি।

মামলার তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন পুলিশপ্রধান।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি বলেন, সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং র‌্যাবও টহলে থাকবে।

পাশাপাশি দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঈদের আগে পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভাবনা মাথায় রেখে পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজিপি। সমস্যাপ্রবণ গার্মেন্টস কারখানা চিহ্নিত করে শ্রমিক নেতা, মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশপ্রধান বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই জনগণের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪