বেনাপোল প্রতিনিধি: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদের আশ্বাস দেওয়া হলেও হুজুগে তেল নেওয়ার প্রবণতা থামছে না। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার মালিকরা ট্যাংকি ফুল করার চেষ্টা করায় যশোরের শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে।
এ সুযোগে কিছু পেট্রোল পাম্প আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও একশ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
শনিবার ও রোববার দুই দিন শার্শা ও বেনাপোল এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি। তেলের আশায় চালকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন। যেসব স্টেশনে সামান্য মজুত আছে, সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহ না থাকায় বেনাপোল ফিলিং স্টেশন, মিলন ফিলিং স্টেশন, তনিমা ফিলিং স্টেশন ও হক ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল না থাকায় আংশিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত দুই দিন ধরে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিপন হোসেন বলেন, দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরব কীভাবে বুঝতে পারছি না। সিয়াম আহমেদ নামে আরেক বাইকচালক বলেন, পবিত্র রমজান মাসে তেলের জন্য এভাবে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘোরাঘুরি করা খুবই কষ্টদায়ক।
এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত চার দিন ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদা প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা।
তনিমা ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুক্রবার ও শনিবার কোম্পানি থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হয় না। সাধারণত রোববার সরবরাহ আসে। আজ আসবে কি না তা নিশ্চিত নই। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ডিজেলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণেই অনেকেই আগে থেকেই তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন।
জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি-এর যশোর জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, স্রেফ আতঙ্ক থেকেই মানুষের মধ্যে তেল মজুদ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। আগে যারা অল্প তেল কিনতেন, তারাও এখন ট্যাংকি পূর্ণ করে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার ক্যান বা ড্রাম নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন। ফলে স্বাভাবিক সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়ে সংকট দেখা দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন