| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৭, ২০২৬ ইং | ০২:১৬:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ৫৮৩১৭১ বার পঠিত
৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: আজ ৭ মার্চ—বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)-এ এক ঐতিহাসিক জনসভায় স্বাধীনতার ডাক দেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার সেই অগ্নিঝরা ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিল এবং স্বাধীনতার পথে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সারাদেশে তখন একটাই প্রশ্ন—৭ মার্চের জনসভা থেকে কি স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান? সেই প্রত্যাশা ও উত্তেজনা নিয়ে সকাল থেকেই রাজধানীর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের ঢল নামে।

ঢাকার আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের স্রোত এসে মিলিত হয় এই ঐতিহাসিক মাঠে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সমবেত হন সেখানে। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও কালো কোট (মুজিব কোট) পরিহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভামঞ্চে উপস্থিত হলে করতালি ও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ময়দান।

দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ২৩ বছরের বঞ্চনা, বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরেন। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন—আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবা না। রক্ত যখন দিয়েছি, আরও রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

তার এই ঘোষণা মুহূর্তেই সমবেত জনতার আবেগকে উন্মোচিত করে। চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে নানা স্লোগান—‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা—শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আবেগ ও তাৎপর্য পরবর্তীতে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কবিতায় তুলে ধরেন—তারপর থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ক্ষমতা বা প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না; তিনি চান বাঙালির ন্যায্য অধিকার। একইসঙ্গে তিনি জনগণকে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো—প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।

তার এই আহ্বান কার্যত পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে তার নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার নির্দেশনা দেয়। সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবকিছুতে বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মেনে চলতে শুরু করে।

৭ মার্চের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা পেয়ে সারা বাংলার মানুষ রেডিওর সামনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ সেই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এর প্রতিবাদে ‘ঢাকা বেতার’-এর বাঙালি কর্মচারীরা কাজ বর্জন করেন এবং বিকেল থেকেই বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

পরে গভীর রাতে সামরিক কর্তৃপক্ষ ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রচারের অনুমতি দিলে সেই ভাষণ দিয়েই ঢাকা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার পুনরায় শুরু হয়। ফলে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বক্তব্য। আন্দোলনের নতুন গতি সৃষ্টি করে।

সেই দিন রাতেই আওয়ামী লীগ ঘোষণা দেয়, ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস অসহযোগ আন্দোলন চলবে। একই সময় পাকিস্তান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নেয় এবং গভর্নর হিসেবে টিক্কা খানকে ঢাকায় পাঠায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঙালি-অবাঙালি সংঘর্ষ, সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এই ভাষণই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করেছিল। পরবর্তীতে সেই আহ্বানের ধারাবাহিকতায় ২৫ মার্চের গণহত্যার পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪