| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জ্বালানি তেল সংকটের গুজব: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে মন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৬, ২০২৬ ইং | ১৭:৪৮:০৮:অপরাহ্ন  |  ৫৯৫২১৩ বার পঠিত
জ্বালানি তেল সংকটের গুজব: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে মন্ত্রী

শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করে ভিড় বেড়েছে। অনেকেই সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় আগেভাগেই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ট্যাংকি পূর্ণ করে নিচ্ছেন। এতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর পরীবাগ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে তিনি জ্বালানি নিতে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। একই সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলে সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেকেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় আগেভাগে ট্যাংক পূর্ণ করছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানি বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক ইমরান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে খবরে দেখেছি। যদি হঠাৎ করে তেলের সরবরাহ কমে যায় বা দাম বেড়ে যায়, সেই চিন্তা থেকেই আজ ট্যাংক ফুল করে নিয়েছি।

রাইড শেয়ারিং চালক আজিম বলেন, “বাইক চালিয়েই সংসার চলে। যদি তেল না থাকে তাহলে তো কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগে ট্যাংকি ভরে রাখছি।”

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও প্রায় একই চিত্র। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে অনেক পাম্পে গ্রাহকপ্রতি ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। এ মজুত দিয়ে ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, পেট্রোল প্রায় ১৫ দিন, অকটেন প্রায় ২৮ দিন, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিন এবং জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিন চলবে।

বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটার কারণে তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার সাশ্রয়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি পাচার ও অবৈধ মজুত রোধে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধরার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪