| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরা রিজিয়া ফিরে এলেন পরিবারের কাছে

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬ ইং | ২৩:০৫:৫৩:অপরাহ্ন  |  ৬২৩২১৭ বার পঠিত
মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরা রিজিয়া ফিরে এলেন পরিবারের কাছে

স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামের রিজিয়া বেগম দীর্ঘ সাত বছর পর দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উত্তরায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিন সন্তান তাদের মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দ এবং বিষাদের মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

রিজিয়া বেগম ২০১৯ সালে গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে ঢাকার এটিবি ওভারসিজ লিমিটেড এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যান। সেখানে তার নিয়োগকর্তার শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বহুবার অভিযোগ দায়ের করলেও ২০২১ সালের পর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ করা হয়, কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত আনার সময় রিজিয়া মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তাকে রাজধানীর আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কাছে হস্তান্তর করেন। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে বেশ কিছু দিন সময় লেগেছে। পরবর্তীকালে ঢাকা পৌঁছানোর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রিজিয়া সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ১৩ দিন তিনি ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে থাকেন। এ সময় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে তাকে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সৌদি ফেরত আরেক নারী রিমা আক্তার (ছদ্মনাম) তার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলা মা-বাবা হারিয়ে এতিমখানায় বড় হওয়া, পরে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করা, স্বামীর ত্যাগ এবং সন্তানদের জন্য সৌদি প্রবাসে যাওয়া—সব মিলিয়ে তার জীবন এক ভয়াবহ কাহিনীতে পরিণত হয়। সৌদিতে চারবার বিক্রি করা হয়, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে থাকেন। ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়, এবং নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসার জন্য ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআইর অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, বিদেশ থেকে আসা ক্ষতিগ্রস্ত নারী কর্মীদের পরিচয় শনাক্ত করা পিবিআইর জন্য এটি প্রথম কাজ। পিবিআই অবিলম্বে বিদেশে নারীদের নিপীড়নের কারণগুলি অনুসন্ধান করে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার কারণে পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করতেন যে রিজিয়া বেঁচে নেই। মা ফিরে আসার পর তার শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি বিস্মিত এবং দুঃখিত। রিজিয়া বর্তমানে কথা বলতে পারছেন না এবং মানসিকভাবে শঙ্কিত।

পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর তাকে মৌলিক চিকিৎসা ও মানসিক সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক ও পিবিআই কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, রিজিয়ার মতো বিদেশে নিপীড়িত নারী কর্মীদের জন্য দ্রুত সেবা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪