স্টাফ রিপোর্টার: সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মন্ত্রী যাকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এর আগে একই দিন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’
এই বক্তব্যের জবাবে তাসনিম জারা তার স্ট্যাটাসে লেখেন, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একে ‘সমঝোতা’ বলা মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সড়কের এই অলিখিত চাঁদা আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন। একইভাবে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে আদায় করা অর্থের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই অর্থের বোঝা বহন করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তারা।
সাবেক এই এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন—যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত? বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
তাসনিম জারা সড়কে টাকা তোলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা উচিত। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বা বার্ষিক নিবন্ধন ফি’র সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দেন তিনি।
এছাড়া সড়কে আদায়কৃত কোটি কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থে—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।