স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সম্মান ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। পররাষ্ট্র কার্যক্রমে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, নন-ইন্টারফেরেন্স, কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, জাতীয় মর্যাদা এবং পারস্পরিক সুবিধা—এসব নীতিকে সামনে রেখেই আমরা এগোবো। এক অর্থে আমরা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানর পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শনে ফিরে যাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমরা সেটাই অনুসরণের চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থকে ‘পই পই করে’ বিবেচনায় নিয়েই পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতা অনুযায়ী সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।
ড. খলিলুর রহমান অতীতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ–এর সদস্যপদ লাভ করে। এর চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়, যা দেশের কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি বড় মাইলফলক। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে তা অবশ্যই আমাদের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্ব কোনোভাবেই কমবে না, বরং আরও বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং সেই যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। দ্রুত ও টেকসই সমাধানের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং যথাযথভাবে তা পালন করবেন।
বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য, যোগ করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি