স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার হওয়ার ৪৯ দিনের মাথায় সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন। আর ৫৩ দিনের মাথায় অর্জন করলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রধান। অন্য নির্বাচিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে এমপি হিসেবে ১৩ ফেব্রুয়ারি তারও গেজেট প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। এর পাঁচ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন তারেক রহমান। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ট দলের প্রধান হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। এরপর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে আগে গত ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে এসে ভোটার হন। কেনেন দুটি আসনে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র। পরবর্তীতে ভোটে দুই আসনেই জয়লাভ করলেও এক সঙ্গে দুটি আসনের এমপি পদ ধরে রাখার আইন না থাকায় বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করার পাশপাশি মন্ত্রিসভারও নেতৃত্ব দেবেন তারুণ্যের এই আইকন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী ভোটার তালিকা প্রণয়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যেও ভোটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।
প্রবাসে থাকাকালীন তারেক রহমানকেও অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিল। তবে তিনি দেশে এসেই ভোটার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। আর সেই ইচ্ছারই প্রকাশ হয়েছে ২৭ ডিসেম্বর। এক্ষেত্রে ভোটার হওয়ার পর এত কম সময়ে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন কেবল তারই।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। একইসঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছেন।
জানা গেছে, তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ভোটার এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাসার নম্বর-এন ই-ডি৩/বি; ওয়ার্ড নম্বর-১৯; গুলশান এভিনিউ; পোস্ট কোড-১২১২। এই ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে তারা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি লন্ডন থেকে দেশে এসে জুবাইদা রহমানও গুলশানের ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোট নেবে ইসি। এ ছাড়া আইনি জটিলতা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করে সংস্থাটি। বগুড়া-৬ আসন বিএনপি চেয়ারম্যান ছেড়ে দেওয়ায় ইসি ঘোষিত শূন্য এই আসনেও শিগগিরিই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে ছিল। এ ছাড়াও নয়টি দল ভোটে অংশ নেয়নি। নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ছয়টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব