স্টাফ রিপোর্টার: দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিতে চায় মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সোম বা মঙ্গলবারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী এই দায়িত্ব মূলত স্পিকারের। শিরীন শারমিন চৌধুরী, যিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং এরপর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কার্যত পদে বহাল আছেন—ফলে শপথ আয়োজন নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি শপথ পরিচালনা করবেন। তবে এবার নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়নি—এ বিষয়টিকেও ঘিরে কিছু আইনি জটিলতার কথা বলছেন আইন বিশ্লেষকেরা।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের গেজেট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শরিক দলগুলো পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বিকল্প কোনো প্রস্তাব এলে শপথ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেও হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম