পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-জিয়ানগর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.)-এর ছেলে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে তার বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মাসুদ সাঈদী মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৫ ভোট। ফলে দু’প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৪৭৩।
উপজেলা ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিয়ানগর উপজেলার ২৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে মাসুদ সাঈদী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৭৭৪ ভোট। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১২ হাজার ৪১৩ ভোট। এ উপজেলায় তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে পিরোজপুর সদর ও পৌরসভার মোট ৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফলেও এগিয়ে ছিলেন মাসুদ সাঈদী। এসব কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৪৩৩ ভোট, যেখানে ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১৪ হাজার ২৮৫ ভোট। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল একত্রিত হওয়ার পরই তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে ওঠে।
ঐতিহাসিকভাবে পিরোজপুর-১ আসনটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি এককভাবে অংশ নিয়ে মাত্র ২৬০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় পর আবারও সাঈদী পরিবারের একজন সদস্য এ আসনে বিজয়ী হলেন।
নির্বাচনের আগে মাসুদ সাঈদী বিভিন্ন পথসভা ও জনসভায় তার পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, তার পিতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বই আকারে জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সুযোগ পেলে তিনিও জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবে একইভাবে উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তার বিজয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শক্তি এবং পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতি—এই তিনটি উপাদান মাসুদ সাঈদীর বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় ইস্যুগুলোকে সামনে আনার কৌশলও তাকে এগিয়ে রাখে।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিজয় ঘোষণা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি