স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আগামী সরকারকে চীনের সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তি প্রভাব নিয়ে আমরা সতর্ক। চীনের সঙ্গে বিশেষ ধরনের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে জানাতে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো থেকে বিকল্প প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ায় ঢাকায় চীনের পদচারণা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সীমান্ত এলাকায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের চীনা চুক্তি এবং চীন-পাকিস্তান যৌথ ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে নজর কাড়ছে।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেনি।
বাণিজ্যিক কূটনীতি ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে
ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে নতুন সরকার কতটা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে, তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে; নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আমরা তা আরও এগিয়ে নিতে চাই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে স্টারবাকস ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় মার্কিন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি সীমিত। এর পেছনে রয়েছে উচ্চ করহার, লভ্যাংশ ফেরত নেওয়ার জটিলতা ও নীতিগত বাধা।ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত হোক, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে কাজ করবে।
রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় একক দাতা। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক অর্থায়ন চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে ব্যয় হবে। তবে তিনি অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য রেশন কমানো এবং কিছু স্কুল বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি