স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও এতে হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি,এই ১০ দিনে সারা দেশে অন্তত ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮৯ জন এবং নিহত হয়েছেন ২ জন।
এর আগের ১০ দিন, অর্থাৎ ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৯টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন ৪১৪ জন এবং প্রাণ হারান ৪ জন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় আসক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে আসকের ডকুমেন্টেশন ইউনিট এই তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।
আসকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৮টি। এসব ঘটনায় আহত হন ২৬ জন এবং নিহত হন ৫ জন। পরবর্তী ১০ দিনে (১১–২০ জানুয়ারি) সহিংসতার ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮টিতে। এ সময় আহত হন ১৭৬ জন এবং নিহত হন ২ জন।
জানুয়ারির শেষ ১০ দিন, অর্থাৎ ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সহিংসতার ঘটনা আরও বেড়ে ৪৯টিতে পৌঁছায়। এতে আহত হন ৪১৪ জন এবং নিহত হন ৪ জন।
রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানায় আসক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১১ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ জনে। আর ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আসক জানায়, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতি ১০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও এতে হতাহতের সংখ্যা তত বাড়ছে।
আসক মনে করছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে উঠছে। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিক নিপীড়নের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসক। সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত নাগরিকদের জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
আসক আশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি