ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নিরাপত্তা প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। জেলার মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২০৮টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক। এসব কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১, ২ ও ৩ আসন মিলিয়ে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ২৯২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১ হাজার ২০৮ জন সদস্য সরাসরি মাঠে ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন আরও ১৪৪ জন সদস্য।
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৬৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটার সংখ্যা, জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, “ঝুঁকিপূর্ণ মানেই যে সেখানে ঝামেলা হবে, বিষয়টি তেমন নয়। বরং এসব কেন্দ্র আমাদের বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।”
নির্বাচনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে দ্রুততম সাড়াদানের (কুইক রেসপন্স) বিশেষ পরিকল্পনা। পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করে বলেন, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এমন একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যে, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে।
নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে মাঠে নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে জানান জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন