স্টাফ রিপোর্টার: প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দুর্বলতা ও পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৮ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারের একটি মহল কয়েকজন প্রার্থীকে পাস করানোর জন্য তালিকা তৈরি করেছে;এমন তথ্য তিনি শুনেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় শেষে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে বলা হলেও বাস্তবে পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট পাক বা না পাক, কিছু মানুষকে সংসদে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। আবার সরকারের কিছু লোকও বলছেন, তাদের সংসদে যাওয়া উচিত’। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ঢাকা-৮ আসনের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি বলেন, আমরা বছরের পর বছর আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। আন্দোলনের পথ সুগম করতে সম্মিলিত ত্যাগ ছিল। কিন্তু এখন কেউ কেউ এমন আচরণ করছে, যেন তারাই দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনো ক্ষমতা বা মন্ত্রিত্ব দাবি করিনি। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়ত, তারাই এখন নানা দাবি তুলছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমার আশঙ্কা, আমরা যে সময় পার করে এসেছি, তার চেয়েও ভয়াবহ সময় সামনে আসছে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী এখন কার্যত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা নির্বাচনকে নিজেদের মতো করে পরিচালনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি তো ১৭–১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছে। অথচ এখন সব দায় বিএনপির ওপর চাপানো হচ্ছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭–১৮ বছরে এলাকার মানুষ কোনো এমপির উপস্থিতিই পায়নি। আমি এই এলাকাতেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। দুর্যোগে-দুর্ভোগে সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম। ক্ষমতায় থেকেও কখনো মানুষের কাছ থেকে দূরে যাইনি।
রমনা পার্ক ও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন বুঝে তিনি টয়লেট নির্মাণ, পানি সরবরাহ ও পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
শেষে তিনি বলেন, আমি সবসময় মানুষের হাতের কাছেই ছিলাম। আগামী দিনেও থাকব। আমাকে খুঁজতে হবে না একটি ফোন দিলেই পাওয়া যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি