| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রশিক্ষণ হতে হবে সমস্যা সমাধানভিত্তিক: প্রধান উপদেষ্টা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০২৬ ইং | ২১:২২:১৪:অপরাহ্ন  |  ৭৯৮৩৬৪ বার পঠিত
প্রশিক্ষণ হতে হবে সমস্যা সমাধানভিত্তিক: প্রধান উপদেষ্টা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নাগরিকসেবা কার্যকর করতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক (প্রবলেম সলভিং) প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ হতে হবে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী, যাতে সরকারি কাজের গতি বাড়ে এবং সেবা পেতে নাগরিককে বারবার সরকারি দপ্তরে ঘুরতে না হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আপ-টু-ডেট হতে হবে। এমন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঝুলে না থাকে। নাগরিক যেন সরকারের কাছে যেতে বাধ্য না হয়, সরকারের সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, সরকারি সার্ভিসে কিংবা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়াতে হবে। এমন দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই নাগরিক কোনো ব্যক্তির কাছে যাবে না, কোনো অফিসে ঘুরবে না। সরকারের সার্ভিস সরাসরি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাবে।

দক্ষ কর্মকর্তা তৈরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভালো পারফরম্যান্সকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ চালুর নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং চালু করা যেতে পারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিসেবে মূল্যায়ন করে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো ধাঁচের কার্যক্রমের সমালোচনা করে ড. ইউনূস বলেন, শুধু ভবন থাকলেই হবে না। দরকার দক্ষ মানবসম্পদ। প্রশিক্ষণ হবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের জন্য। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন যাতে তারা গর্ববোধ করতে পারেন।

বৈঠকে জানানো হয়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যা বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার (বিপিএটিসি), বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (নাডা) এবং ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এনএপিডি)কে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

`লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়েরসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪