ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুটি ইউনিয়নের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকদহ ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী হামিরদী ইউনিয়নের গ্রামবাসীর মধ্যে পুখুরিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় পুখুরিয়া এএস একাডেমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিদ্যালয়ের ভিতরে অবরুদ্ধ হন। মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। এঘটনায় বাজারের কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনগণের হস্তক্ষেপে তিন ঘন্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে আলহাজ্ব শরিফ (২৪), ইদ্রিস শরিফ (২৮) ও রাসেল শেখ (২৮) ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সদরপুর উপজেলা হাসপাতালে আরও কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুখুরিয়া এএস একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আবু জাহের এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলমের উদ্বোধন করেন। দুপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে হামিরদী ইউনিয়নের কিছু যুবক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একই সময় দাওয়াত না পেয়ে পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনাটি তামিম নামে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের মধ্য দিয়ে আরও তীব্র আকার নেয়। খবর দ্রুত চার গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মানিকদহ ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ প্রতিবাদে সড়কে নামেন। পাল্টা জবাবে হামিরদী ইউনিয়নের ১০ গ্রাম থেকে শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। উভয়পক্ষের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, পুখুরিয়া এএস একাডেমির ক্রীড়া অনুষ্ঠানে কিছু যুবক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার এবং মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।