| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি হাতিও সংরক্ষণ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ইং | ১৭:৫৩:১৭:অপরাহ্ন  |  ১১৫৯ বার পঠিত
মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি হাতিও সংরক্ষণ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

 শেরপুর প্রতিনিধি: মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি বন্য হাতি সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, মানুষ ও হাতি উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। পাশাপাশি হাতিকেও সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে দুদিক থেকেই আমাদের লাভ হবে।

তিনি বলেন, হাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে এবং বন্য হাতির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন এবং বন্য হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে মতবিনিময় সভার আগে পরিবেশমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাতি চলাচলের পথ পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসন এবং শেরপুর ও ময়মনসিংহ বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং হাতি সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের কারণ, এর ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।

সভায় বক্তারা বলেন, মানুষ ও হাতির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্য হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংরক্ষণ করা জরুরি। হাতির আক্রমণে প্রাণহানি, ঘরবাড়ির ক্ষতি এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হাতির জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করা, স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, হাতির উপস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা মনে করেন, স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, বন বিভাগ ও হাতি সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ দ্বন্দ্ব স্থায়ীভাবে নিরসন করা কঠিন। তাই মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাতির নিরাপদ বিচরণ ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪