| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিক্ষার্থী বলাৎকার: মাদরাসার শিক্ষককে গণপিটুনি, উদ্ধারে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৮, ২০২৬ ইং | ২২:১২:২১:অপরাহ্ন  |  ৬২৫ বার পঠিত
শিক্ষার্থী বলাৎকার: মাদরাসার শিক্ষককে গণপিটুনি, উদ্ধারে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একাধিক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদরাসার শিক্ষককে উদ্ধারে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশের একটি পিকআপভ্যান ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মার্কাজুল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত কারি এনামুল্লাহর ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার ও আটক করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ওসি খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মার্কাজুল মাদরাসার হেফজ বিভাগে পড়ুয়া একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় আশিকুল্লাহ যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসায় গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করেন।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, ‘মাদরাসার হুজুর বিভিন্ন সময়ে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। উপায় না পেয়ে পরিবারকে জানাই। পরে পরিবারের লোকজন এসে মাদরাসায় হুজুরকে আটকে রাখে।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদরাসায় দিয়েছিলাম। অথচ সেখানে আমার ছেলে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাদরাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার সময় জনতার হামলায় আমিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪