ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাদ্রাসাছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে সদর উপজেলার দেহন এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাক্টরের চাপায় মিসতাহা জান্নাত সারা (১১) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হয়। একই রাতে গড়েয়া ইউনিয়নের কিসমত তেওয়ারিগাঁও এলাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে রঞ্জন বর্মন (২০) ও তাঁর বন্ধু মোস্তাকিম হোসেন মুন (১৮) নিহত হন।
রোববার সকাল ১০টার দিকে ভেলাজান-দেহন আঞ্চলিক সড়কের দেহন আগাটোলা মোড় এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বাবার দীর্ঘদিন দুবাইয়ে অবস্থানের কারণে সে সদর উপজেলার দেহন ময়দানে খালার বাসায় থেকে দেবাডাঙ্গী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
নিহতের মামা আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা থেকে বাইসাইকেলে খালার বাসায় ফেরার পথে সারা ওই এলাকায় পৌঁছালে ইটবোঝাই নম্বরবিহীন একটি মহেন্দ্র ট্রাক্টর দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে তাঁর বাইসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে সারা সড়কে পড়ে গেলে ট্রাক্টরটি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ট্রাক্টরের চালককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এজাহার দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের কিসমত তেওয়ারিগাঁও সাহাপাড়া মোড়ে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে রঞ্জন ও মোস্তাকিম গুরুতর আহত হন। রঞ্জন মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন এবং মোস্তাকিম পেছনে বসা ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রঞ্জনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকের বাম পাশে গভীর আঘাত ছিল। গুরুতর আহত মোস্তাকিমের বাম চোখ, মুখ ও বাম কানে আঘাত লাগে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে রংপুরে নেওয়ার পথে রোববার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় পৃথক এজাহার দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব