| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণে আট প্রকল্প

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৬, ২০২৬ ইং | ১০:৪৪:৫৭:পূর্বাহ্ন  |  ৬৪০৫ বার পঠিত
সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণে আট প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের মৎস্য খাত এতদিন মূলত অভ্যন্তরীণ জলাশয়ভিত্তিক হলেও এখন সমুদ্রভিত্তিক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে মেরিকালচার, সিফুড প্রসেসিং এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ব্লু ইকোনমি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩.৪ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে প্রায় ২২ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। এবার লক্ষ্য উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক প্রজাতির চাষ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আটটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো— মেরিন ফিশ হ্যাচারি, অফশোর কেজ ফার্মিং, বাণিজ্যিক সি-উইড খামার, আধুনিক মাছ অবতরণ কেন্দ্র, সিফুড প্রসেসিং পার্ক, কোল্ড-চেইন ও রেফ্রিজারেটেড লজিস্টিকস, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম এবং অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি ও অটোমেশন।

মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি বিভাগের উপপরিচালক ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী বলেন, এসব প্রকল্প একে অপরের পরিপূরক। হ্যাচারিতে উন্নতমানের পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে অফশোর কেজ ফার্মিংয়ে বাণিজ্যিক মাছ চাষের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি সি-উইডসহ অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক ল্যান্ডিং সেন্টার মাছের গুণগত মান সংরক্ষণে সহায়ক হবে, আর সিফুড প্রসেসিং পার্ক ও কোল্ড-চেইন আন্তর্জাতিক বাজারের মান অনুযায়ী পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ও অটোমেশন উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। হ্যাচারি, বাণিজ্যিক খামার, মাছের খাদ্য উৎপাদন, খামারের সরঞ্জাম, কোল্ড-চেইন, প্রসেসিং, প্যাকেজিং, লজিস্টিকস, স্মার্ট মনিটরিং, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ—পুরো মূল্যশৃঙ্খলেই রয়েছে বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

সরকারের মূল্যায়নে কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী-সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ-নোয়াখালী উপকূল এবং খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল মেরিকালচারের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এলাকা। এসব অঞ্চলে সামুদ্রিক মাছ, সি-উইড, ঝিনুক ও কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

ইতোমধ্যে সামুদ্রিক মাছ, সি-উইড, শেলফিশ ও কাঁকড়া চাষে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজাতি নির্বাচন, হ্যাচারি উন্নয়ন, স্মার্ট অ্যাকুয়াকালচার এবং আইওটি-ভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণাও এগিয়ে চলছে। ফলে ভবিষ্যতে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের সিফুড রপ্তানির সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশে ইতোমধ্যে প্রসেসিং প্ল্যান্ট, কোল্ড স্টোরেজ, বন্দর, সড়ক যোগাযোগ, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি সনদ প্রদানের সক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

এ খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতীয় মৎস্যনীতি ২০২৬, মেরিন ফিশারিজ আইন ২০২০, মেরিন ফিশারিজ রুলস ২০২৩, ২০২৬–২০৩৫ মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, মেরিন স্পেশাল প্ল্যানিং (এমএসপি), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং জলবায়ু-সহনশীল ব্লু ইকোনমিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪