স্টাফ রিপোর্টার: দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও প্রায় ৪ লাখ শিশু নির্ধারিত সব টিকা পায়নি। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিশু (১ দশমিক ৫ শতাংশ) একেবারেই কোনো টিকা পায়নি। সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিসেফ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহরাঞ্চলে টিকাবঞ্চিত শিশুর হার তুলনামূলক বেশি। শহরে মাত্র ৭৯ শতাংশ শিশু পূর্ণ ডোজ টিকা পেয়েছে, যেখানে ২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু একটি ডোজও পায়নি এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু নির্ধারিত সব ডোজ সম্পন্ন করতে পারেনি। বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ গ্রহণ করেছে।
ইউনিসেফ জানায়, ইপিআই কর্মসূচির ফলে দেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৯৪ হাজার মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে এবং প্রায় ৫০ লাখ শিশুর অসুস্থতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এ খাতে প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে প্রায় ২৫ ডলার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জিত হচ্ছে।
তবে প্রতিটি শিশুর কাছে টিকার আওতা পৌঁছাতে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে টিকাবঞ্চিত ৭০ হাজার এবং আংশিক টিকা পাওয়া ৪ লাখ শিশুর কাছে পৌঁছানো জরুরি। এরা সাধারণত দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে ঝুঁকির মধ্যে থাকে এবং প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর একটি বড় অংশের জন্য দায়ী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনবল সংকট, শহরের বস্তি এলাকায় টিকাদানে ঘাটতি, দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা এবং গ্যাভি-এর সহায়তায় আসন্ন পরিবর্তন—এসব বিষয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকাদান কর্মসূচির অর্থায়ন, টিকা সংগ্রহ, নীতিগত সহায়তা, কোল্ড চেইন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সরকারকে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া বলেন, ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকে টিকাদানে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পূর্ণ টিকাগ্রহণের হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে শেষ ধাপটিই সবচেয়ে কঠিন। প্রত্যন্ত ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে জরুরি পদক্ষেপ, জোরালো প্রচেষ্টা ও বাড়তি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, বিশ্ব টিকা সপ্তাহের প্রেক্ষাপটে জীবনরক্ষাকারী এই কার্যক্রম জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর জন্য সমানভাবে টিকা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে।
ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পোলিও, হাম, রুবেলা ও রোটাভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সব শিশুকে টিকার আওতায় এনে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাগুলো।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি