ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের স্বাধীন গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান এখনো তাদের মাটিতে ভারত ও কাশ্মীরকে লক্ষ্যবস্তু করা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বছরের পর বছর সামরিক অভিযান এবং নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানি ভূখণ্ডে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি দিল্লি।
সিআরএস-এর তথ্যমতে, ভারতকে লক্ষ্য করে সক্রিয় থাকা বেশ কিছু গোষ্ঠী এখনো পাকিস্তানে সক্রিয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার জন্য দায়ী ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’ এবং ২০০১ সালে ভারতীয় সংসদে হামলার সঙ্গে যুক্ত ‘জৈশ-ই-মহম্মদ’ পাকিস্তানি মাটি থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান একই সঙ্গে এই গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি এবং লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদজনিত পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। টানা পাঁচ বছর প্রাণহানির সংখ্যা কমার পর ২০১৯ সালে তা ৩৬৫-তে নেমেছিল।
তবে এরপর থেকে প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদজনিত মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে ৪,০০১-এ পৌঁছেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানে জঙ্গিবাদের এই পুনরুত্থান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত।
মার্কিন কংগ্রেসের এই গবেষণা শাখাটি আরও জানিয়েছে, অধিকাংশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই ইসলামি চরমপন্থী আদর্শ দ্বারা পরিচালিত। এই গোষ্ঠীগুলোকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে- বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন, আফগানিস্তানকেন্দ্রিক, ভারত ও কাশ্মীরকেন্দ্রিক, অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যসম্পন্ন এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।
আল-কায়েদার মতো সংগঠনগুলোর মূল শক্তি ক্ষয় হলেও তারা অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এই অঞ্চলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রভিন্স (আইএস-কে)-এর আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ যোদ্ধা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানজুড়ে সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণভাবে 'তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান' (টিটিপি)-কে পাকিস্তানের সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই দলটির মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তান রাষ্ট্রকে উৎখাত করে সেখানে শরিয়াহ আইন জারি করা।
উল্লেখ্য যে, সিআরএস মার্কিন কংগ্রেসের একটি স্বতন্ত্র সংস্থা যা বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে কংগ্রেস সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। তবে এই প্রতিবেদনগুলোকে মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য করা হয় না। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব